তৈমুর খান

 


 গুচ্ছকবিতা 

 

অর্থহীন কিছুটা সময়

    

 

আস্ফালনের মেঘ বৃষ্টির ভাষাও বোঝেনি 

দ্রুত রাত গভীর কোনও হন্তারকের হাতে 

আত্মসমর্পণ করেছে 

 

জ্যোৎস্না আজ আসেনি উঠোনে 

সব বিপ্লবের ঘুম আততায়ী নির্ঘুমের নিকটে 

অন্তহীন চলে গেছে 

 

আমাদের বেঁচে থাকার অর্থহীন কিছুটা সময় 

নীরব ভিক্ষাজীবীর প্রসন্নতায় বাঁচে 

 

 

 

অনেক ভালুক

 

অনেক ভালুক এখন কাজল পরেছে 

রাস্তার মোড়ে মোড়ে যদিও শিকারি তারা 

ধর্ষণের গান গেয়ে ফেরে 

 

আমরা নির্মাণ করি পাঠশালা 

রাষ্ট্রের উন্নয়ন-উৎসবে আমরা আলো জ্বেলে 

ডাকি সব মোহিনী পতঙ্গদের 

 

ভালুকের হাস্যোজ্জ্বল দাঁতে 

কিছুটা রগড় ঝরে 

আর অনবদ্য রমণসংবাদ 

 

একটি দেশ শুধু ভালুকের 

একটি দেশ অরণ্যের জটিল আঁধার 

কার দিন শেষ হয়, কার দিন আসে 

কেহই তার জানে না কিছুই…

 

 

 

 

 

 

বাজা

 

 

 বিসমিল্লা  বেজে ওঠে বাঁশির ভেতর

 হরিপদরা কিনু গোয়ালার গলিতে

 শাঁখে-ঘন্টায় দেবতারা বাজে

 আযানে ঈশ্বর

 

 আমি ঠিক বাজতে জানি না

 

ধর্মেও না

              জিরাফেও না

 

 মুরগিজন্মের ইতিকথা

      

  নিজের ভেতর থেকে কোনো ডাক আসছে

  মুরগিজন্মের পর সভ্যতায় কোন্ সকাল আসবে?

 'জাগো! জাগো! তোমরা সতর্ক হও!'

 কঁকর কঁকের এই অনুবাদ!

 

 শহিদ হবার আগে বলে যাচ্ছি 

 আর আমার বংশধরেরাও আসছে

 স্লোগানে স্লোগানে পৃথিবী ঢেকে যাবে 

 পালকে পালকে উড়বে প্রতিবাদ

 শহিদী রক্তের আলপনায় তৈরি হবে

                         ঐতিহাসিক নকশা।

 

 এইসব ভোরের পেট চিরে বেরিয়ে আসবে 

  আরও এক নতুন ভোর

 অনেক মৃত্যুর ভেতর দিয়ে যেমন করে 

 হেঁটে আসে বাঁচার দুঃসাহস।

 

 

 

অস্তিত্ব পাথরের মতো

 

কাতুকুতু পাড়ায় হাসিরা জেগে উঠেছে 

ময়ূর ও সাপের খেলা দেখতে দেখতে 

ক্রমশ বার্ধক্য আসে 

দোকানগুলি সব বন্ধ হয়ে যায় একে একে 



কোথায় ফিরতে হবে আমাকে   ? 

অলৌকিক রশ্মি এসে সামনে দাঁড়ায় 

রমণী শরীর হয়ে রমণ গঙ্গায় ভাসে 

অথবা নিসর্গ বিদ্যুৎ হয়ে এঁকেবেঁকে চলে 



আমি আর মাথা উঁচু করতে পারি না 

অস্তিত্ব পাথরের মতো ভারী হয়ে 

একটা নিথর পৃথিবী হয়ে যায়..... 

--------------------------------------

ছবি ঋণ: গুগল


 

1 টি মন্তব্য:

  1. মুরগি জন্মের পর সভ্যতায় কোন সকাল আসবে?
    ক্রমশ বার্ধক্য আসে
    দোকান গুলো বন্ধ হয়ে যায় একে একে

    অসাধারণ সব শব্দ বন্ধ

    উত্তরমুছুন