সাত্যকি

 


 গুচ্ছ কবিতা

মাদুর

 

১.

পাঁচিলে হেলান দিয়ে আছে গাছ

কয়েক শতাব্দী আগে নিভে গেছে আয়োজন

প্রায়ান্ধকার শিকড়ের ভিতর

জমানো ইতিহাস

 

২.

রক্তের মত অবিশ্রাম ছুটে যাচ্ছে

কিছু আলাপের বিকেল

তবুও এখানে স্থির দাঁড়িয়ে আছি

আমার বিকেল ছিন্ন তানপুরার মত

 

৩.

চোখের কোণ জুড়ে

বিরাট সূর্য লেখা হয়

আমি সমান্তরালে হেঁটে যাই

সেই কাটাকুটি দিন ভিজে যায়

আমাদের বিচ্ছিন্ন রোদে 

 

৪.

কফির কাপ থেকে উষ্ণতা

ছুঁয়ে যাচ্ছে হাতে

স্পর্শ ফিরে আসছে

আবার ফিরে যাচ্ছে শীতের রুমাল

 

৫.

বৃষ্টি দিনের শেষে কিছু ভিড় দেখি

জানলার পর্দা সরিয়ে

শহরের রাস্তায় তোমার পায়ের ছাপ

আঁকছে রোদ

 

 

৬.

উলের ফাঁকে ফাঁকে

জমে আছে ধুলোবালি

আর সুদীর্ঘ উপশম হীন গল্প  

 

 

৭.

দিন শেষ হয়ে গেলে

নেমে আসে এই মাঠের মত রাত

গাছের মত ঘুমিয়ে পড়ি

পিঠ জুড়ে শূন্য নদীর স্রোত  

 

৮.

পাতাঝরা শুরু হলে

ছাদের সিঁড়িতে মুখ গুঁজে

বসে পড়ে রোদ

উদ্দাম বাতাস ঠেস দেয় থামে

আমি ফিরে যাই দেওয়ালের মোম রঙে

 

৯.

বনতুলসীর বেরা যতবার ডিঙিয়ে যেতে চাই

ততবারই সন্ধ্যা নেমে আসে

আশ্চর্য, এবারও দাঁড়িয়ে দেখছি  

সুপুরি গাছের গায়ে ঠেস দেয় দুঃখ

  

১০.

আলোর পথ ধরে আতশ কাচের নিচে

কাগজ রাখলে দেখেছি জ্বলে উঠতে

খুব ধীর হলেও ধোঁয়া বেড়িয়ে এসেছে

 

এখন ধোঁয়া বেরতে না দেখলেও

জ্বালা বেশ বুঝতে পারি  

কখন যে কাগজ সরে গেছে