অসম্মান
আজ আবার লিফট্ খারাপ। সিঁড়ি
দিয়ে কোনরকমে উঠে এলো রিমঝিম। ব্যাগ থেকে চাবিটা বার করে দরজা খুলল। সারাদিন এত
হাঁটাহাঁটি, ছোটাছুটি; শরীরটা আর চলছে
না। সাধারণত ফ্রেশ না হয়ে ও সোফা বা বিছানায় বসেনা।
কিন্তু আজ আর পারল না;চিত হয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করল। বারবার
মেয়েটার আর্ত গলা ওর কানে বেজে চলেছে।
" দিদি আমাকে এখান
থেকে নিয়ে যাও না প্লিজ!"রোজ রোজ হাজার হাজার কেস,
খবর পেয়েই এদিক সেদিক ছুটে যাওয়া,তার মধ্যে
কমিশনের কতশত মিটিং। মাঝেমধ্যে মনে হয় ওর,সব ছেড়ে ছুড়ে
দিই।তারপরই,বিশেষত এসময়টা বাবার কথা খুব মনে পড়ে। রিমের
চাকরিটা পাওয়ার পর জ্যেঠুকে ফোনে বলতে গিয়ে বাবার কান্না জড়ানো গলাটা ভুলতে
পারেনা সে।
শরীরটা ভালো নেই বাবার। এমনিতেই সব
ভুলে যাচ্ছে। তার ওপর আশি ছুঁই ছুঁই বয়সে এই ক্রিটিক্যাল অপারেশন।
দু-বেলা দুজন আয়া দেশের বাড়িতে দেখছে। পাশে কাকারাও আছে। ছোট থেকে মা ছাড়াই বাবা রিমঝিমকে বড় করেছে।
কোনোদিন কাউকে এক মুহুর্তের জন্যও বাবা অসম্মান করেনি। নিজেকে অসহায় ভেবে
সুবিধাবাদী হয়ে ওঠেনি। এমনকি রিমঝিমের বিয়ের পরপরই যখন বুঝল,মেয়ে উলুবনে মুক্ত ছড়িয়েছে। একবাক্যে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে একটুও দ্বিধা করেনি সে। ছোট থেকেই রিমঝিম বাবার মত
হতে চায়ত। বাবার কথা ভাবতে ভাবতে নতজানু হয়ে আসে ওর মন। একটা প্রশান্তির মৃদু
হাসি ওর ক্লান্তির পিঠে সবে হাত বুলিয়ে দিতে যাচ্ছে ঠিক তখনই ফোনটা জোরে বেজে
উঠল।
চোখ খুলে ফোনের স্ক্রিনে এল রাতের
আয়ার নম্বর। রিমঝিম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল রাত ১২:৩০টা। প্রবল উদ্বেগে ফোনটা
রিসিভ করতেই
দিদি তুমি কবে আসছ?
কেন? কী হয়েছে? বাবা ঠিক
আছে তো?
হ্যাঁ। কিন্তু আমি আর কাজ করব না।
কেন? কী হল?
তোমার বাবা একটা অসভ্য,ইতর, নোংরা লোক।

.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ