সুবল দত্ত

 



নির্বান পথ   

 

[ মৃত্যুর সময় হৃদয় শ্বাস মস্তিষ্ক ইত্যাদি দেহের বিপাকীয় অঙ্গগুলি বন্ধ হাওয়ার সাত সেকেন্ড পর মন ও প্রাণের অমূর্ত ক্রিয়া নিয়ে কাউন্ট ডাউন কাল্পনিক দর্শনমূলক গদ্য নির্বান পথ মন ও প্রাণশক্তি মৃত্যুর পর কিছুক্ষন শরীরে থাকে, এই বিজ্ঞান প্রসূত থিয়োরীর প্রেক্ষিতে এই কল্পনা প্রথম অধ্যায়টি বিচ্যুতি সাতটি স্তরে প্রাণ ও মনোশক্তির দেহের উপস্থ(নিম্নাংশ) থেকে উর্দ্ধমুখ দিয়ে মহাশূন্যে লীনদ্বিতীয় অধ্যায় সুষুপ্তি বা নিদ্রা এই অধ্যায়ে পার্থিব প্রাণশক্তির মহাপ্রাণের অথৈ সাগরে বিলীন।এবার তৃতীয় অধ্যায়ের  প্রথম পর্যায়ে 'সংযুক্তি'। প্রাণশক্তির কণা উপকণা অনু ও জৈবকণায় রূপান্তর এবং আবার অভিযোজনের জন্যে পার্থিব জৈব আধারের খোঁজ(natural selection)।]

 

                      তৃতীয় অধ্যায়

 

                                       সংযুক্তি 

 

মহাবেগবান তড়িত্‍শক্তি কণা

ফিরে পাওয়া নির্দিষ্ট প্রাণশক্তি পুঁটুলির ভিতরে শক্তিবদ্ধ হয়ে এবার ওই আবর্তগুলির কাছে এসে তার বোধ হোলো, সেগুলো স্বতন্ত্র নয় একে অপরের সাথে শিকলের মত আবদ্ধ এবং এই শিকলশক্তি আরো একটি প্রতিরূপ শিকলের সাথে পাক দিয়ে জড়ানো আবার এই দুই শিকলকে পাক দিয়ে জড়িয়ে আছে একটি আবরণ শক্তি এই আবরণটিকে সে চিনতে পারলো এই হোলো সময় সময়ে আবদ্ধ আবর্ত শিকল দুটির দুই প্রান্ত অনন্তে শিকলবদ্ধ একপ্রান্ত থেকে নীলাভ আবর্তগুলি মহাবেগে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছে সে রয়েছে মাঝখানে, নিশ্চল ওই অন্ধআবর্তশক্তি, সময়শক্তি ও তার প্রাণশক্তির কোনও রূপ বা রূপান্তর নেই, কিন্তু এই শক্তিগুলি তার পার্থিব পরিণামের অনুঘটক, এইকথা তার অনুভবে এলো সাথে সাথে, তার শূন্যরূপ থেকে অতিসুক্ষ্ম রূপান্তরের জন্যে তাকে তার ঠিক সামনে, আবর্ত শিকলের ঠিক মাঝখানে একটি নির্দেশিত আবর্তে ঢুকে যেতে হবে তা কিভাবে, সেই গাণিতিক ছন্দও তার বোধে এল বস্তুত সময় তার বোধে আসতেই সময়ের রূপরেখাও তাকে ওতপ্রোতে জড়িয়ে গেছে শিকলের যে প্রান্ত থেকে আবর্তগুলি ধেয়ে আসছে, সেটা ব্রহ্মান্ডীয় অতীত প্রান্ত, অসীমের যে প্রান্তে আবর্তগুলি বিলীয়মান হচ্ছে তা ভাবীপ্রান্ত এবং ঠিক মাঝখানে যেখানে তাকে স্বনিবেশ করতে হবে সেটা ঘটমান বর্তমান তার সামনে থেকে শিকলেবদ্ধ অপসৃয়মান আবর্তগুলি তার অনুভবে এলো ভিন্ন ভিন্ন জীবনীশক্তির আবহমন্ডলের পূর্বাভাস এক একটি আবর্ত পৃথিবীর মাতৃপ্রকৃতির সুদূর সম্ভাবী ভিন্ন ভিন্ন জীবনের রূপরেখা ও পটভূমির ঝলক দেখিয়ে সময়ের ভাবী গর্ভে বিলীয়মান এই আবর্তগুলি এখনও বাস্তব নয় এই শক্তির এখনো প্রকাশ হয়নি কিন্তু সব অগোচর হলেও তার বোধে ধরা পড়ছে এইভাবে অসংখ্য আবর্তগুলি পার হতে হতে হঠাত্‍ এক অনন্ত ব্রহ্মান্ডীয় জ্যোতি তাকে দীপ্তময় করে তুলল সে দেখল, তাকে ঘিরে যে প্রাণশক্তি পাক দিয়ে বেষ্টন করেছিল, সেটা এখন আর নেই তবে সেটা যে তার মধ্যে সমাহিত হয়ে গেছে তা তার বোধে এল এই অপূর্ব অভাবনীয় জ্যোতি ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে তার সামনে যে আবর্তটি আছে তার ভিতরে অসম্ভব গতিতে তাকে টেনে ঢুকিয়ে দিল সেখান থেকে শুরু হল অসম্ভব দ্রুত সংকোচন সঙ্কুচিত হতে হতে সেই জ্যোতিসহ সে এক অকল্পনীয় বেগবান তড়িত্‍কণায় রূপান্তরিত হয়ে সেই জীবনী আবর্তের ভিতরে ঘুরতে লাগল ঘুরতে ঘুরতে তার বোধে এল এই আবর্তটিই তার ধারক, যে ভাবী সময়ের পৃথিবীতে তাকে নিয়ে যেতে চায় তার রূপান্তরিত তড়িত্‍কণা এখনো এতো বেগবান যে, ব্রহ্মান্ডীয় আলোকণাও তার চেয়ে বহুগুণ ভারী

                 

(ক্রমশ)

1 টি মন্তব্য: