সজ্জ্বল দত্ত




 চারটি কবিতা 
   

                         রাক্ষসীবেলায় 
                     ________________
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে ঠিক ঠিক মিলেছে দু'য়ে ।
এসো খাবে এসো মা , 
এই কলার পাতার সামনে থিতু হয়ে বসো । 
দ্যাখো যা যা খেতে চাও সব পরপর সাজান
                     সঙ্গে একচূর্ণী জল ।

রিক্সা দাঁড়িয়ে দূরে 
পিছনে তাকিয়ে দ্যাখা আমার বারণ ।

কোথায় থাকবে... কি কি খাবে এরপর .... !
আমার আবার কাল ঘুম থেকে উঠলেই অফিস ।
এখন তো পরিস্কার দেখতেই পাবে তুমি 
                     কোথায় কখন কোন্ অপকর্মে মেতে আছি 
কত তাড়াতাড়ি তুমি বছরে দু'বার শুধু মালা দেওয়া ' মা '  

কতদিন ... হাজার লক্ষ বছর ... 
সামনে নদীর জল বয়ে বয়ে শেষ ... 
তুমি ...
বারবার তোমরা সবাই 
উঁকিঝুঁকি রাক্ষসী নাড়িভুঁড়ি নিয়ে 
ছেলের সাজান থালায় তবে এভাবেই .... 


                      পাপ 
                 ___________
এই সেই অন্ধকার নড়াচড়া ডিগবাজি 
সামান্য গরম ভাব বুক মুন্ডু ঠ্যাং ! 

এই সেই অন্ধকার তীব্র বিবাদরাত 
দ্বিতীয় তৃতীয় রিপু উনুনের আঁচ ! 

এই সেই অন্ধকার পুজোর প্রতিমা সাজ
দু'হাত বাড়িয়ে জোরে ' আয় লক্ষী আয় ' ডাকি
                      বুকের ওপর পা শ্মশান কালীর !

এই সেই অন্ধকার ছিঁড়েখুঁড়ে আলো খুঁজি 
হাতড়ে রাস্তা খুঁজি 
অট্টহাসি পিশাচীনি ভুশুন্ডির মাঠ ! 

অন্ধকার চেহারায় । 
প্রেতযোনী সাদা শাড়ি কপাল ঠুকতে থাকে 
                       দে'য়ালের গায়ে  
কান্নায় বিধিলিপি ইঁটের গাঁথনি ভিজে 
                        কপালের লেখনে কি নরম প্রলেপ !
এক ফোঁটা স্নেহরক্ত ঢালুপথে গঙ্গায় । 
রোজ ভোরে ঘাটস্নান পবিত্র আমি 
অফিসে কাজেকম্মে সর্বপাপঘ্নং 
শয়তানি মাথা ছুঁয়ে চোখ ভিজে পিশাচীনি 
                        ছেলেপিলে মুখ চেয়ে ভবিষ্যৎ আশায়


                         ভাঁজ 
                      ________
সামান্য ভাঁজ দেখে ভোলাপাগলার রক্ত দপদপ , হঠাৎ
জাতীয় সড়ক ধরে লম্বা হাঁটার শুরু । চোখ শূণ্যে এদিক
ওদিক । বিরহীর উচ্ছেবেচুনী বেগোপাড়া ক্যাথলিক
যীশাস্ ঝোলানি ভাঁজ সোনালী গভীর ধানক্ষেত মাঝে
সূক্ষ্ম আলপথ । এ ভাঁজ ও ভাঁজ বুঝে হাঁটি হাঁটি উদাস
পাগলা ভোলা । সূর্য মধ্যপথে - রুমালে ভাঁজ মুছে সেজেগুজে
হাসাহাসি ভ্যানরিকশায় বসে বরের সঙ্গে । সূর্য ঢালুপথে - 
আশাবৌদির বেকারি বিস্কুট দুধ চা .... এইসব এটা ওটা ভাঁজে ভাঁজে 
সাতেপাঁচে আড়াআড়ি লেভেলক্রসিং পার ।
মাইল মাইল হাঁটছে । পাগলার দিন বড় রাত বড় পুরুষাঙ্গ
ছোট বড় । আলো ভর্তি কোর্টমোড় । খুঁজছে খুঁজুক ।
এপাশে ওপাশে মাটি । রক্তে দপদপ নাভি খুঁড়ে রাখা
কই ? .... ' মাণিক ' সিনেমা হল । রাম তেরী মন্দাকিনী । সগৌরবে আঠারো সপ্তা'  
দেখিয়েছে । 
ঠোঁটের ডগায় মধুভাঁজ ! চুকচুক চুকচুক ! ভেতরে নাড়িভুঁড়ির রক্ত দপদপ !
পুরো খুলে দেখিয়েছে । 
লম্বা লম্বা পা ভোলাপাগলা । হুশহাশ গোদাগোদা পান্জাব
লরী । বড় ভাঁজ ছোট ভাঁজ ঝুপড়ি ভাঁজ মারুতি ভাঁজ 
আশপাশ এদিক ওদিক তীব্র হেডলাইট ! সামলে হাজার
কোটি দু'পায়ে ভোলাপাগলা ভাঁজুনি মারতে মারতে 
চূর্ণী পার হয়ে শান্তিপুর .... 
দেবগ্রাম বেলডাঙা বহরমপুর .... 


                 ৮ ই মার্চ কিংবা শবরীমালা 
             ____________________________
টর্নেডো আয় নেচে নেচে দেখি উড়ে যাক দোনামনা
থালায় প্রদীপ সতীসাবিত্রী দ্রৌপদী হাতে মালা । 
খোলাচুল পিঠে ' ট্র্যাডিশন ' সেঁটে মহা'ভারতীয় তোরা
ওই কটা দিন কান খুলে শোন্ শবরীমালায় তালা !

এই কটা নয় , প্রতি নারীদিন ফায়দাগন্ধে জেগে
দ্রৌপদী বাজি হাড়ের পাশায় যুধিষ্ঠিরের জেদে ! 
শাস্ত্রবিধান - সতীসাবিত্রী বন্ধ দরজা জেনে 
কত একা রাত ঘুমের আড়ালে অপমানে কেঁদে কেঁদে !

দ্বিমতে সে'রাতে অমাবস্যায় পূর্ণচাঁদ 
টি' দিতে এসে চাঁদের কপালে চাঁদে 
বলে যায় ওকে " গোমুত্র " দিস , স্তন্য থাক , 
সাজান পুতুল চুল বাঁধে আর রাঁধে ? 

আজ তবে তিথি মাসিকরক্তে স্নান সেরে 
বিগ্রহ ছুঁয়ে নিজেই নিজেকে খুঁজো - 
পাথরপ্রতিমা টান মেরে ফ্যালো ডাস্টবিনে 
ফুলে চন্দনে জরায়ু সাজিয়ে পূজো !