সুবর্ণরেখা
১
দুপুর
দহনের স্বর্ণ মুদ্রায়
ক্রয় করা
নির্জনতা টুকু
আমি প্রতিদিন
সুবর্ণরেখার কাছ থেকে পাই।
তার শীর্ণকায়
জল চিহ্ন
লিখে দিয়ে
যেও, উড়ান পাখি
আমাদের শেষ
দৈব সাক্ষাৎ ছিলো
কোন
জন্মান্তরের কাঁধে!
২
শ্রমের লবন নীলে আঁকা
সান্ধ্য
শরীর
যুদ্ধের লালা
ধুয়ে
সুবর্ণরেখায়
স্নান করে।
জলবৃত্তের
তরঙ্গমালায়
মুছে যায় সব
আফসোস সূচক
পাখিদের গান।
আঘাত চিহ্ন।
চৌকাঠে ঠায় দাঁড়ানো
ছোট্ট
মেয়েটির এখনো দূর্গা হওয়া বাকি!
৩
শীত এলে
আমার ক্রোমোজম বদলে
শীত ঘুমে চলে
যাই। সোনাঝুরি দুই তীরে রেখে
সুবর্ণরেখা
যায় দূরের গ্রামান্তরে!
কুয়াশার
আড়ালে জিয়ন কাঠির মতো চাঁদ
স্পর্শ করে
মৃত লখাইয়ের মাঠ।
কিছু দিন পর
বসন্তের আবছায়া সাইকেল
দেখা যায় দূর
সাকিনের পথে!
বাঁচাতে
বাঁচাতে বৈঁচি ফুলের দেশে
শরীর ক্রমশ
নদী হয়ে আসে
আর হৃদয় লাল
টিলার বয়সী কিশোরী!
৪
সুবর্ণরেখ, একটি জলের শরীর
শ্যাওলা দলের
আলোচনায়
গতিহীন
সিদ্ধান্ত টুকু এখনো অস্থির!
সুবর্ণরেখা, একটি নারী ঘটিত দীর্ঘশ্বাস,
যার জলচুড়ির
শব্দে এখনো দূর দূর
গ্রামীন
উপকথায়
বেঁচে ওঠেন
চাঁদবেণে থেকে চন্ডীমঙ্গল..
৫
সব কথা তো
আর বলতে পারি না
এই যেমন, সুবর্ণারেখা বনান্তরের পিঠে
তৃতীয়ার চাঁদ
এঁকে কি ভাবে
নদী থেকে
নারী হয়ে যায়, আমি বলতে পারি না!
অথচ বুঝতে
পারি তার মোচড় দেওয়া
নদী বাঁকে
বৈরাগী বিকেল এলে
উদাস শালিক
আর কানা বাউলের গান
মন খারাপের
উড়কি ছড়ায়!
৬
বিকেলের
দেউল ভাঙা ঘাট। পুরাতন সিঁড়ি।
জেলেদের নৌকাগুলি উবু হয়ে
শুয়ে আছে।
পিঠে উজ্জ্বল মাছরাঙা।
এখানেই জীবন
থেকে মৃত মাছের ফসল গুলি ওঠে
সুবর্ণরেখার
গর্ভে
এভাবেই খাদ্য
শৃঙ্খলে আদর জড়িয়ে
বেঁচে থাকে
মীনজন্ম ভ্রূণ।
জেলেদের
পাড়ায় ওড়ে আঁশাটে উৎসব
দেখা হয়ে
সুখের সাথে, অসুখের
রাঢ় মগ্ন দেশে!



0 মন্তব্যসমূহ