সোমা রায়

             


                      জ্ঞানরবি

 ভেন্টিলেটরের জাফরির বেশিরভাগ ফাঁক মাকড়সার জাল আর ঝুলে বন্ধ। তবু তারই একটা ছিদ্রপথে প্রথম সূর্যের সুতীক্ষ্ণ ফলা সোজা চোখে এসে বিঁধছে। চোখ মেলতেই রাতজাগা চোখদুটো ঝলসে গেল।

 আগেকার দিনের পুরনো একতলা বাড়ি। দক্ষিণে একটুকরো ছোট্ট বাগান। চটপট মাথা ঝাঁকিয়ে উঠে পড়লেন অমরেশ। একরাশ স্মৃতির সঙ্গে সারারাত যুদ্ধের ঝড় শরীরে মনে। মধ্যবয়সটা খুব সাংঘাতিক। টানটান বুদ্ধি স্মৃতি ন্যায় অন্যায়বোধ আর আফসোসে জটপাকানো।

 মুঠোফোন বাজছে, ধরলেন,

 “কোথায় তুমি?”

 “বাড়িতে”

 “মানে”

 “নিজের বাড়িতে!”

 “বুঝলাম। কখন ফিরবে?”

 “আপাতত এখানেই থাকব।”

 “মুরোদ জানা আছে।”

 “একটু জানা না হয় বাকি থাক।”

 ফোনের অফ করতেই দেখতে পেলেন মায়ের সময়ের বুড়ি কাজের মাসি লাঠি ঠুকতে ঠুকতে হাজির। পাশে অল্পবয়সি একটি মেয়ে। মাসির ফোকলা মুখে একগাল হাসি, “গোপাল আমার, এই দেক আমার নাতনি। তুমার কাজ করি দিবে।”

 মুহূর্তে মনের মেঘ এক দমকা হাওয়ায় উধাও।

 না। এখনও কিছু বাকি আছে। জীবনের। বেঁচে থাকার।