অরুণাভ ভৌমিক




গুচ্ছ কবিতা



১। শুধুমাত্র স্তব্ধতায়!


চলে যাওয়ার পর দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল
আবাসনের বারান্দায় হলুদ রোদ
এখনি কি কেউ আসবে
কথা ও সেমিকোলনহীন কাজের তাড়ায়
সোফার পায়ের সাথে দুলছে পাজামা
ছড়িয়ে ছিটিয়ে চায়ের কাপ উঠছে নামছে

নেপথ্যে জমতে থাকে কত যে অভিমান
কাল সারারাত কিছুই লিখিনি চোখের পাতায়
লিখিনি জলপ্রপাত কিংবা বিধিবহির্ভূত সম্পর্ক
এভাবেই আলুথালু দিন উদাস বদ্ধ ঘরে

আমার কি ঘুম পাচ্ছে
আমি কি ঘুমিয়ে পড়ছি
কেউ একদিন সব কথার আড়ালে দেখবে
ইজিচেয়ারটা একা একা একা বসে আছে
কেউ একদিন ফিরে এলে
কেউ একদিন চলে গেলে
ইজিচেয়ারটা তখনও একা একা
একদিন... সেইদিন... শুধুমাত্র স্তব্ধতায়!

২। দূরত্ব


দূরত্ব প্রত্যেকের মত
ঘটনার পর মানুষের মত
আমরা যখন ধার নেই খোলা হাওয়া
বাইরে তখন একা অচিনপুরের কথকতা

দূরত্ব তবু ঠিক ভেসে ওঠে ভোরবেলা
ঘাসের চাদরে...!

৩। জ্যামিতি


কেউ কেউ ক্লাসে জ্যামিতি শেখেনা
কিন্তু মাঠে সারাক্ষণ কোণ আবিষ্কার করে

কেউ কেউ ক্লাসে জ্যামিতি শেখেনা
তবু শূণ্যে নিখুঁত বৃত্তচাপ এঁকে দেয়

ওদের সরলরেখা নয় বক্ররেখার মত সরল
তবু ওরা কেউ ক্লাসে জ্যামিতি শেখেনি!

৪। ভয়


প্রথমটা ঘটেছিল রাত ৭-৩০ মিনিটে

দ্বিতীয় ভয়ঙ্কর ঘটল রাত ৮-৩০ মিনিটে

বনলতা উপুড় হয়ে শুয়ে আছে

সে শ্বাস ফেলে
সে ভয় খুঁজে পাচ্ছে না

তার আর হারাবার কিছুই রইল না

তারপর সব চুপ!